খাল-নদী খনন করে ভূমিকম্প মোকাবেলা করা যাবে — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দাবী বিভ্রান্তিকর
২০ মে ২০২৬ গাজীপুরের টঙ্গীতে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, খাল ও নদীর সঙ্গে ভূমিকম্পের সম্পর্ক রয়েছে; তাই খনন করে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু পৃথিবীর কোনো ভূবিজ্ঞান সংস্থা — ইউএসজিএস (USGS), জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি দপ্তর (UNDRR), যুক্তরাষ্ট্রের ফেমা (FEMA), এমনকি বাংলাদেশের নিজস্ব 'বিল্ডিং কোড ২০২০' — কেউই খাল বা নদী খননকে ভূমিকম্প মোকাবেলার পদ্ধতি বলে স্বীকৃতি দেয় না। ভূমিকম্প হয় ভূত্বকের নিচে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে — পৃষ্ঠের কয়েক ফুট গভীর খনন এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
Misleading
দাবি যাচাই
খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবেলা করতে হবে
দাবীটি কী?
২০ মে ২০২৬, বুধবার গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ ধরপাড়ায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন:
"খাল ও নদীর সঙ্গে ভূমিকম্পের সম্পর্ক রয়েছে। তাই দুর্যোগ মোকাবেলায় এখন থেকেই কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে।"
পরে দৈনিক সমকাল এই বক্তব্যকে শিরোনাম করে — "খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবেলা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী" — এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্ড আকারে প্রচার করে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের বিপদ, খাদ্য উৎপাদনের চাহিদা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি — তিনটি বিষয় একসঙ্গে এনেছিলেন। প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউটটির নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
রায়: বিভ্রান্তিকর — কেন?
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো এক এক করে দেখা যাক।
১. ভূমিকম্প আসলে কীভাবে হয়?
এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলেই দাবিটির ভুল ধরা পড়ে। আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএস-এর সরল ভাষায় ব্যাখ্যা — পৃথিবীর উপরের আবরণটি বেশ কয়েকটি বিশাল টুকরোয় ভাগ করা; এগুলোকে টেকটোনিক প্লেট বলে। এই প্লেটগুলো বছরের পর বছর কয়েক মিলিমিটার করে নড়ে। কিন্তু প্লেটগুলোর কিনারায় ফাটল (যাকে বলে ফল্ট) আছে, যেখানে দুটি প্লেট একে অপরের গায়ে লেগে থাকে। ঘর্ষণের কারণে আটকে যায়, শক্তি জমতে থাকে। একসময় ঘর্ষণ আর শক্তি ধরে রাখতে পারে না — তখন প্লেট দুটি ঝট করে পিছলে যায়। সেই ধাক্কাটাই আমরা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভব করি।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি আসে ভারতীয় প্লেট, ইউরেশীয় প্লেট ও বার্মা প্লেটের এই সংঘর্ষ থেকে। সিলেটের কাছে ডাউকি ফল্ট, ময়মনসিংহের কাছে মধুপুর ফল্ট — এগুলো এখনো সক্রিয়, এখনো প্রতি বছর কয়েক মিলিমিটার করে নড়ছে [১][২]।
এখন প্রশ্ন: খাল-নদী খনন কত গভীর হয়? বড়জোর কয়েক মিটার। আর ভূমিকম্প হয় পৃথিবীর কত গভীরে? কয়েক কিলোমিটার থেকে শতাধিক কিলোমিটার নিচে। লিথোস্ফিয়ার অর্থাৎ পৃথিবীর শক্ত উপরের স্তরটিই প্রায় ১০০ কিলোমিটার পুরু। মাটির উপরের কয়েক মিটার খুঁড়ে কয়েক কিলোমিটার নিচের প্লেট-চলাচল থামানোর কথা ভাবা বিজ্ঞানগতভাবে অসম্ভব। এটি অনেকটা — চাঁদের কক্ষপথ পরিবর্তন করতে ছাদের উপর জল ঢেলে দেওয়ার মতো কথা।
২. পৃথিবীর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতি স্বীকার করে না
ভূমিকম্প মোকাবেলায় কী কী করতে হবে সেটি ঠিক করে রেখেছে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা — জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দপ্তর (UNDRR), যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (FEMA), ইউএসজিএস, এবং বাংলাদেশের নিজস্ব বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ (BNBC ২০২০)। সবগুলোর তালিকায় একই কথা — ভবন নির্মাণে কড়াকড়ি, পুরনো ভবন শক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষকে প্রস্তুত রাখা [৩][৪]। কোথাও — একটি জায়গাতেও — "খাল খনন" বা "নদী খনন" পদ্ধতির নাম নেই।
এমনকি বাংলাদেশের গবেষকরাও যখন ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে গবেষণাপত্র লেখেন, তখন তাঁরা সিলেট-ময়মনসিংহের ফল্ট, ঢাকার মাটির গঠন, ভবনের মান — এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন; খাল-নদী খনন কেউ আনে না।
৩. মাটি তরলীকরণ — যা প্রধানমন্ত্রী হয়তো বোঝাতে চেয়েছিলেন
এখানে একটু বিজ্ঞান আছে, যেটি প্রধানমন্ত্রীর কথার পেছনে থাকতে পারে। ভূমিকম্পের সময় একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে — মাটি তরলীকরণ। ভেজা নরম বালুমাটি ভূমিকম্পের কম্পনে হঠাৎ তরলের মতো আচরণ করে, ফলে ভবন কাত হয়ে পড়ে। ঢাকা শহরে এই ঝুঁকি বেশি, কারণ বহু এলাকা পুকুর-জলাশয় বুজিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে।
কিন্তু বিজ্ঞান বলছে — মাটি তরলীকরণ কমাতে যা করতে হবে সেটি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের ঠিক উল্টো। ২০২৫ সালে সায়েন্সডিরেক্টে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, লিকুইফেকশনের ঝুঁকি কমাতে দরকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামানো, নির্মাণস্থলের ড্রেনেজ উন্নত করা এবং মাটি পরীক্ষা করে তবেই ভবন বানানো [৫]। খাল-নদী খনন করলে রিচার্জ বাড়ে — মানে ভূগর্ভস্থ পানি বাড়ে — যা মাটি তরলীকরণের ঝুঁকি কমানোর বদলে বরং বাড়াতে পারে।
তাছাড়া যে গবেষণা ঢাকার বুজানো জলাশয় ও ভূমিকম্পের সম্পর্ক দেখিয়েছে, সেটি 'শহরে বুজিয়ে ফেলা পুকুর-জলাশয়' সম্পর্কিত — গ্রামীণ এলাকার সেচ-খাল খনন নিয়ে নয়। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি হলো আগামী চার বছরে ২০,০০০ কিলোমিটার গ্রামীণ খাল-নদী পুনঃখনন — দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
৪. উল্টো গবেষণাও আছে — পানি কমালে ভূমিকম্প বাড়ে
কাঠমাণ্ডু পোস্টে প্রকাশিত ২০১৬ সালের একটি গবেষণা উল্লেখ করেছে — ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমিতে বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি অপসারণের কারণে নেপালের ভূমিকম্প আরো তীব্র হয়ে থাকতে পারে [৬]। অর্থাৎ পানি কমালে ভূমিকম্প বাড়ার আশঙ্কা; পানি বাড়ালে ভূমিকম্প কমে — এমন গবেষণা পৃথিবীতে নেই। প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তা এই গবেষণার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক (যদিও এই হাইপোথিসিসও বিতর্কিত)।
তাহলে ভূমিকম্প মোকাবেলায় আসলে কী কাজ করে?
এই প্রশ্নের উত্তরে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের ভূবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। ভূমিকম্প থামানো যায় না — কিন্তু ভূমিকম্প হলে যেন ভবন না পড়ে, ভবন পড়লেও যেন মানুষ মারা না যায় — সেই প্রস্তুতি নেওয়া যায়। বাংলাদেশের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এই প্রস্তুতি ঠিকভাবে নিলে ঢাকায় ভূমিকম্পে ভবন ধসের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব [৩]।
১. ভবন নির্মাণ কোড (BNBC ২০২০) মেনে চলা
বাংলাদেশের নিজস্ব ভবন নির্মাণ আইন আছে — যার নাম 'বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০' বা সংক্ষেপে BNBC ২০২০। এই আইনে দেশকে ৪টি ভূমিকম্প-ঝুঁকির অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে — সিলেট সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সবচেয়ে কম। প্রতিটি অঞ্চলে কীভাবে ভবন বানাতে হবে — খুঁটির গভীরতা, লোহার রডের পরিমাণ, কংক্রিটের মান — সবই এই কোডে লেখা। সমস্যা হলো — কোড তো আছে, কিন্তু মানা হচ্ছে কিনা সেটি দেখার লোক কম। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল 'বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি' (BBRA) আইন পাশ হয়েছে, যা এই তদারকি বাড়াবে বলে আশা।
২. পুরনো দুর্বল ভবন রেট্রোফিটিং
ঢাকা শহরের অনেক ভবন তৈরি হয়েছে বিল্ডিং কোডের আগে — ৩০-৪০ বছরের পুরনো ভবন। এগুলো ভূমিকম্পে সবচেয়ে আগে ভেঙে পড়বে। সমাধান একটাই — 'রেট্রোফিটিং', অর্থাৎ পুরনো ভবনে পরে কলাম, বিম শক্ত করা, ক্রস-ব্রেসিং দেওয়া, ভিত্তি মজবুত করা। এটি ব্যয়সাপেক্ষ কাজ, কিন্তু পুরো ভবন ভেঙে আবার বানানোর চেয়ে অনেক সস্তা। জাপান, ইতালি, তুরস্ক — সবাই এই কাজে বহু বিনিয়োগ করেছে।
৩. বড় কাঠামোতে বেস আইসোলেশন
বেস আইসোলেশন হলো একটি প্রকৌশল কৌশল, যেখানে ভবন বা সেতুকে মাটি থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন করে এমন একটি স্প্রিং বা রাবার-পেন্ডুলাম-জাতীয় বিয়ারিংয়ের উপর বসানো হয়। ফলে ভূমিকম্পে মাটি কাঁপলেও উপরের কাঠামো অনেক কম কাঁপে। বাংলাদেশের পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতুতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে — পদ্মা সেতুতে আছে ডাবল কনকেভ ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং, যমুনা সেতুতে আছে সিসমিক স্টিল পিন্টল। এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বাধ্যতামূলক করা উচিত।
৪. লিকুইফেকশন-প্রবণ এলাকায় নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের কিছু এলাকার মাটি ভূমিকম্পের সময় তরলীকরণের ঝুঁকিতে আছে — বিশেষত বুজিয়ে ফেলা পুকুর, ঝিল বা নদীর পুরনো খাত। এসব এলাকায় উঁচু ভবন নির্মাণের আগে গভীর মাটি পরীক্ষা, বিশেষ ভিত্তি ডিজাইন ও কঠোর তদারকি দরকার। কিছু ক্ষেত্রে এসব এলাকায় ভারী ভবন নিষিদ্ধ করাও যেতে পারে।
৫. জনসচেতনতা ও নিয়মিত মহড়া
চিলির ১৯৬০ সালের ৯.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পরে দেশটি কঠোর বিল্ডিং কোড চালু করে। তারপর ২০১০ সালে যখন ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলো, ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছিল। আবার জাপানে স্কুলের বাচ্চাদের প্রতি মাসে ভূমিকম্প মহড়া দেওয়া হয় — কোথায় লুকাবে, কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, কীভাবে বের হবে। বাংলাদেশেও এ ধরনের নিয়মিত মহড়া ও জনসচেতনতা কর্মসূচি দরকার। এ বিষয়ে সরকার যে নতুন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট বানাচ্ছে, সেটি অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রী আসলে কী বলতে চেয়েছিলেন?
এটিও বোঝা দরকার। পুরো বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তিনটি বিষয় একসঙ্গে এনেছিলেন — ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের সংকট, খাদ্য উৎপাদনের চাহিদা পূরণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস। খাল-নদী খনন কর্মসূচি জল সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, বন্যা মোকাবেলা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় উপযোগী — এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সেচের জন্য পানি পাওয়া যাবে, বন্যার সময় পানি ধরে রাখা যাবে, ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে।
তবে এই কর্মসূচিকে ভূমিকম্প মোকাবেলার কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। ভূমিকম্প আর বন্যা-জলবদ্ধতা-খরা — দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির দুর্যোগ। একটির সমাধান অন্যটির সমাধান নয়।
প্রধানমন্ত্রী নিজেই অনুষ্ঠানে স্বীকার করেছেন, "প্রাকৃতিক দুর্যোগ থামানো যাবে না" — এটি সঠিক কথা। কিন্তু তারপর খাল-নদী খননের সঙ্গে ভূমিকম্প মোকাবেলার সম্পর্ক টেনে আনার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে — মনে হতে পারে, খাল খনন করলে বুঝি ভূমিকম্পের ক্ষতি কম হবে। বিজ্ঞান বলছে, তা হবে না।
রাষ্ট্রপ্রধানের মুখ থেকে ভুল তথ্যের ঝুঁকি
বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ-ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশ। সিলেট, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ অঞ্চল বিশেষভাবে ঝুঁকিতে। ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে কী মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সহ বহু গণমাধ্যম বহুদিন থেকে সতর্ক করে আসছে [৭]। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এ ধরনের ভূমিকম্প হলে শুধু ঢাকায়ই কয়েক লাখ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই বাস্তবতায় সরকারের নীতি হওয়া উচিত — BNBC ২০২০ এর কঠোর বাস্তবায়ন তদারকি, পুরনো ভবন রেট্রোফিটিং, এবং ব্যাপক জনসচেতনতা। খাল-নদী খনন একটি ভিন্ন এবং নিজস্বভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প — কিন্তু এটিকে ভূমিকম্প-প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখানো মানুষকে আসল প্রস্তুতি (ভবন কোড ও কাঠামোগত নিরাপত্তা) থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ঝুঁকি বহন করে।
রাষ্ট্রপ্রধানের মুখ থেকে আসা বৈজ্ঞানিকভাবে দুর্বল দাবী সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিন বিশ্বাস হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের মতো বিষয়ে — যেখানে ভুল প্রস্তুতি মানে জীবনের ঝুঁকি — সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা ও জানানো রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বের অংশ।
উপসংহার
"খাল ও নদী খনন করে ভূমিকম্প মোকাবেলা করা যাবে" — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সরলীকৃত দাবী বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নয়। বিশ্বের কোনো ভূবিজ্ঞান সংস্থা বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই পদ্ধতিকে ভূমিকম্প মোকাবেলার কৌশল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ভূমিকম্প হয় ভূত্বকের অনেক গভীরে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে — পৃষ্ঠের কয়েক মিটার গভীর খনন কাজে এই প্রক্রিয়া বদলায় না। ভূমিকম্প থেকে ক্ষতি কমাতে যা সত্যিই কাজ করে — ভবন কোড, রেট্রোফিটিং, বেস আইসোলেশন, জনসচেতনতা — তা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি। তাই দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র (10)
What is an earthquake and what causes them to happen? (USGS)
usgs.gov
Earthquakes are caused by sudden slip on a fault due to tectonic plate stress release.
Probabilistic seismic hazard mapping for Bangladesh using updated source models
tandfonline.com
Bangladesh's earthquake risk comes from Indian, Eurasian, and Burma plate convergence and Dauki, Madhupur, Sylhet-Assam faults.
Govt. ensures earthquake-resilient construction through BNBC 2020 (BSS)
bssnews.net
BNBC 2020 with proper implementation can reduce earthquake-related building collapse risk by up to 40% in Dhaka.
Building codes save lives — UNDRR
undrr.org
UN's official position: building codes are the proven earthquake mitigation strategy.
Liquefaction hazard mapping in DMDP area of Bangladesh
sciencedirect.com
Lowering the groundwater table reduces liquefaction risk.
Groundwater depletion in Indo-Gangetic Plain linked to Nepal earthquake?
kathmandupost.com
Contested research linking groundwater extraction to increased seismicity in the Himalayas.
Is Dhaka ready for an earthquake of over 7 magnitude? (TBS)
tbsnews.net
Long-standing warnings from experts about Bangladesh's earthquake preparedness gaps.
খাল-নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী (Ajker Prosongo)
ajkerprosongo.com
Full text of PM Tarique Rahman's speech at the National Disaster Management Institute foundation ceremony.
১৭ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী (Risingbd)
risingbd.com
National Disaster Management Research and Training Institute foundation ceremony details.
Seismic Building Codes — FEMA
fema.gov
Building codes are the recognised earthquake mitigation approach in the US.
এই তথ্য যাচাই FactCheckerLab দ্বারা তৈরি। আমাদের পদ্ধতি পড়ুন. সংশোধন জানান.
