"৯৫ তে নেয়া খালেদা জিয়ার পরমাণু নীতিই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল ভিত্তি" বলে মোহনা টিভির দাবিটি মিথ্যা
মোহনা টিভির দাবি — ১৯৯৫ সালে খালেদা জিয়ার নেয়া পরমাণু নীতিই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল ভিত্তি। নথিপত্র অনুযায়ী এই দাবিটি মিথ্যা। কেন্দ্রটির আসল ভিত্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পরমাণু শক্তি কমিশন ও শেখ হাসিনার ১৯৯৭-২০২৩ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন কার্যক্রমে।
False
দাবি যাচাই
১৯৯৫ সালে খালেদা জিয়ার নেয়া পরমাণু নীতিই বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল ভিত্তি
দাবি কী?
বাংলাদেশের একটি ভেরিফায়েড টেলিভিশন চ্যানেল — মোহনা টিভি — তাদের ফেসবুক পেজে ৩ মে ২০২৬ তারিখে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই শিরোনামে: "৯৫ তে নেয়া খালেদা জিয়ার পরমাণু নীতিই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল ভিত্তি!" — পোস্টটিতে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয় #Kaledazia #powerplant #mohonatv।
মোহনা টিভির এই প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য — বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) প্রতিষ্ঠার মূল কৃতিত্ব বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার, কারণ তিনি ১৯৯৫ সালে একটি "পরমাণু নীতি" গ্রহণ করেন — যা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল ভিত্তি।
দাবিটি ফ্যাক্টচেক করার জন্য নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে।
রায়: মিথ্যা — কেন?
দাবিটি মিথ্যা। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে।
১. ১৯৯৫ সালে খালেদা জিয়ার "পরমাণু নীতি" বলে কোন স্বতন্ত্র নথি নেই
খালেদা জিয়ার প্রথম বিএনপি সরকারের আমলে (১৯৯১-১৯৯৬) প্রণীত নথিটি হলো জাতীয় জ্বালানি নীতি (National Energy Policy / NEP) — যা প্রকৃতপক্ষে চূড়ান্ত আকারে প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে [১][২]। এটি কোন "পরমাণু নীতি" নয় — এটি একটি বহুমাত্রিক জ্বালানি নীতি যেখানে পারমাণবিক শক্তিকে গ্যাস, কয়লা, বায়োমাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মত একটি "সম্ভাব্য বিকল্প" হিসাবে উল্লেখ করা হয় [৩]।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী: "১৯৯৫ সালে জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকে একটি সম্ভাব্য বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।" [৩] — অর্থাৎ এটি ছিল উল্লেখমাত্র, কোন বাস্তবায়ন রূপরেখা বা প্রকল্প-ভিত্তি নয়।
২. পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান — ১৯৭৩ সালে
স্বাধীনতার আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপপুর প্রকল্পের পক্ষে আন্দোলন করে আসছিলেন:
- ৯ অক্টোবর ১৯৬৯ — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লালমনিরহাটের শ্রমিক সমাবেশে রূপপুর প্রকল্পের তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের দাবি জানান [৪]।
- ৮ মার্চ ১৯৭০ — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাবনার জনসভায় পাকিস্তান সরকারকে বিলম্ব না করে রূপপুর বাস্তবায়নের আহ্বান জানান [৪]। তিনি তখন বলেন: "এখনো রূপপুর প্রকল্প সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অথচ করাচির পারমাণবিক প্রকল্প অনেক পরে নেওয়া হলেও তার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।" — এ বক্তব্যে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষপাতিত্বের তীব্র সমালোচনা করেন।
স্বাধীনতার পর — ১৯৭৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৫/১৯৭৩ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) প্রতিষ্ঠা করেন [৫]। এটিই বাংলাদেশের সম্পূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ:
- ১৫ মার্চ ১৯৭২ — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরে গিয়ে সিপিএসইউ মহাসচিব ব্রেজনেভের সাথে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন [৪]। এটিই বাংলাদেশ-রাশিয়া পারমাণবিক সহযোগিতার প্রথম রাষ্ট্রীয় ভিত্তি।
- ২২ মে ১৯৭২ — দৈনিক বাংলায় শিরোনাম প্রকাশিত হয়: "শীঘ্রই হাতে নেয়া হবে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ" [৪]। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাশিয়ার সাথে ২০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন।
- ২৭ আগস্ট ১৯৭৩ — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন [৪]।
- ১৯৭৩ — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সদস্য করেন [৪]।
- ১৯৭৩-১৯৭৮ — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয় [৪]।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৬.২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন দেশীয় পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী তৈরির জন্য [৪]।
এই সাতটি পদক্ষেপ ছাড়া কোন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্ভব ছিল না — এগুলোই প্রকল্পের আসল ভিত্তি।
প্রসঙ্গ: ১৯৬১-৬২ সালে যখন পাকিস্তান সরকার রূপপুরে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের ধারণা গ্রহণ করে ও জমি অধিগ্রহণ করে — তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অধীনে কারাগারে অথবা ছাড়া পেয়ে গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৬১ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' প্রতিষ্ঠা করেন — যার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ-বৈষম্য নিয়ে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের আন্দোলনই পাকিস্তান সরকারকে রূপপুর সাইটে প্ল্যান্ট প্রস্তাব করতে বাধ্য করে — যদিও ১৯৭১-এর আগে পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষপাতিত্বের কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।
৩. বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন শেখ হাসিনা — ১৯৯৭-২০১৭ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী: "১৯৯৬-২০০১ সময়কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার সরকার রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তৎকালীন সরকার কর্তৃক প্রণীত ও অনুমোদিত জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৭-এ এটি বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়। ১৬ অক্টোবর ১৯৯৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।" [১]
শেখ হাসিনার আমলে প্রকল্পের প্রতিটি বাস্তব ধাপ:
- জানুয়ারি ১৯৯৭ — জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৭ (NEP) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা সরকার, যেখানে রূপপুর বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয় [১][৬]।
- ১৬ অক্টোবর ১৯৯৮ — প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রূপপুর বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয় [১]।
- মে ২০০৯ — শেখ হাসিনা সরকার রাশিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে [৭]।
- মে ২০১০ — শেখ হাসিনা সরকার রাশিয়ার সাথে আন্তঃসরকার চুক্তি স্বাক্ষর করে [৭]।
- ২ নভেম্বর ২০১১ — শেখ হাসিনা সরকার রাশিয়ার রোসাটমের সাথে চূড়ান্ত আন্তঃসরকার চুক্তি স্বাক্ষর করে — এটিই প্রকল্পের প্রকৃত চুক্তিগত ভিত্তি [৭][৮]।
- ২ অক্টোবর ২০১৩ — প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন [৮][৯][১০] — এটিই প্লান্টের প্রকৃত ভৌত ভিত্তি।
- ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ — শেখ হাসিনা সরকার রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সাথে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের সাধারণ চুক্তি স্বাক্ষর করে [৭]।
- ৩০ নভেম্বর ২০১৭ — শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় [৭][৮]।
- জুলাই ২০১৮ — দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ শুরু [৭]।
- ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ — শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে রাশিয়া থেকে প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছায় [৩][৭]।
৪. খালেদা জিয়ার নিজের ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে কোন বাস্তব পদক্ষেপ নেই
খালেদা জিয়া দশ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন (১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬) — কিন্তু এই দশ বছরে রূপপুর প্রকল্পের কোন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়নি, কোন রিঅ্যাক্টর সরবরাহকারীর সাথে চুক্তি হয়নি, কোন নির্মাণকাজ হয়নি।
বরং স্টিমসন সেন্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী: "বিএনপি, রূপপুরের প্রকাশ্য সমালোচক, পূর্বে ২০০১ সালে এই প্রকল্পের আলোচনাকে বিলম্বিত (bogged down) করেছিল।" [১১]
তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৃত ইতিহাসের সারণি
| ক্রম | মাইলফলক | তারিখ | সরকার | দল |
|---|---|---|---|---|
| ১ | পাকিস্তান কর্তৃক রূপপুর প্রকল্পের ধারণা | ১৯৬১ | পাকিস্তান (আইয়ুব খান) | — |
| ২ | পাকিস্তান কর্তৃক ২৬১ একর জমি অধিগ্রহণ | ১৯৬২ | পাকিস্তান (আইয়ুব খান) | — |
| ৩ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক লালমনিরহাট/পাবনায় রূপপুর বাস্তবায়নের প্রকাশ্য দাবি | ১৯৬৯-৭০ | পাকিস্তান (বিরোধী হিসেবে) | আওয়ামী লীগ |
| ৪ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রেজনেভের সাথে রূপপুর আলোচনা (USSR) | ১৫ মার্চ ১৯৭২ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান | আওয়ামী লীগ |
| ৫ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) প্রতিষ্ঠা | ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান | আওয়ামী লীগ |
| ৬ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ভারত-বাংলাদেশ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি | ২৭ আগস্ট ১৯৭৩ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান | আওয়ামী লীগ |
| ৭ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের IAEA সদস্যপদ গ্রহণ | ১৯৭৩ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান | আওয়ামী লীগ |
| ৮ | প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ অন্তর্ভুক্ত | ১৯৭৩-৭৮ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান | আওয়ামী লীগ |
| ৯ | জিয়াউর রহমান আমলে ফরাসি Sofratom সমীক্ষা | ১৯৭৭-৭৮ | জিয়াউর রহমান | সামরিক/বিএনপি-পূর্ব |
| ১০ | জিয়াউর রহমান আমলে ১২৫ মেগাওয়াট প্রকল্প ECNEC অনুমোদন (বাস্তবায়ন হয়নি) | ১৯৮০ | জিয়াউর রহমান | বিএনপি-পূর্ব |
| ১১ | জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন (পারমাণবিক উল্লেখ মাত্র) | ১৯৯৫-৯৬ | খালেদা জিয়া | বিএনপি |
| ১২ | জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৭ প্রকাশ — রূপপুর বাস্তবায়নের সুপারিশ | জানুয়ারি ১৯৯৭ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ১৩ | প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রূপপুর বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত | ১৬ অক্টোবর ১৯৯৮ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ১৪ | বিএনপি কর্তৃক রূপপুর আলোচনা বিলম্বিত | ২০০১ | খালেদা জিয়া | বিএনপি |
| ১৫ | শেখ হাসিনা সরকার কর্তৃক রাশিয়ার প্রস্তাব অনুমোদন | এপ্রিল ২০০৯ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ১৬ | শেখ হাসিনা সরকার কর্তৃক রাশিয়া-বাংলাদেশ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি | মে ২০০৯ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ১৭ | শেখ হাসিনা সরকার কর্তৃক রাশিয়া-বাংলাদেশ আন্তঃসরকার চুক্তি (চূড়ান্ত) | ২ নভেম্বর ২০১১ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ১৮ | প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন | ২ অক্টোবর ২০১৩ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ১৯ | পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আইন ২০১৫ | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ২০ | NPCBL কোম্পানি গঠন | ১৮ আগস্ট ২০১৫ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ২১ | অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সাথে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার সাধারণ চুক্তি | ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ২২ | মূল নির্মাণকাজ শুরু — প্রথম ইউনিট কংক্রিট ঢালাই | ৩০ নভেম্বর ২০১৭ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ২৩ | দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ শুরু | জুলাই ২০১৮ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ২৪ | প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছায় | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | শেখ হাসিনা | আওয়ামী লীগ |
| ২৫ | প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং (ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকার) | ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ইউনুস | অন্তর্বর্তী |
মোট ২৫টি প্রধান মাইলফলকের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান ২১টি (৮৪%) — যার মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬টি এবং শেখ হাসিনার ১৫টি। বিএনপির মাত্র দুটি — তার মধ্যে একটি (২০০১) প্রকল্প বিলম্বিত করার কাজ।
সংক্ষেপে — প্রকল্পের তিনটি স্তম্ভ:
১. প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৭৩): BAEC প্রতিষ্ঠা, IAEA সদস্যপদ, ভারত-চুক্তি, USSR-এর সাথে ব্রেজনেভ আলোচনা।
২. বাস্তবায়ন সিদ্ধান্ত — শেখ হাসিনা (১৯৯৭-১৯৯৮): NEP-১৯৯৭-এ সুপারিশ, ১৬ অক্টোবর ১৯৯৮-এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত।
৩. চুক্তি, ভিত্তিপ্রস্তর ও নির্মাণ — শেখ হাসিনা (২০১১-২০২৩): রোসাটম চুক্তি (২০১১), ভিত্তিপ্রস্তর (২০১৩), $১২.৬৫ বিলিয়ন চুক্তি (২০১৫), নির্মাণ শুরু (২০১৭), জ্বালানি আগমন (২০২৩)।
খালেদা জিয়ার ১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ একটি "সম্ভাব্য বিকল্প" হিসাবে উল্লেখ ছিল — এটি কেন্দ্রটির "মূল ভিত্তি" নয়।
উপসংহার
মোহনা টিভির দাবি — "৯৫ তে নেয়া খালেদা জিয়ার পরমাণু নীতিই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল ভিত্তি" — সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর হাতে — পাকিস্তানি শাসন আমলে যিনি লালমনিরহাটে ১৯৬৯ ও পাবনায় ১৯৭০ সালে রূপপুর বাস্তবায়নের প্রকাশ্য দাবি জানিয়েছিলেন। প্রকল্পের চুক্তিগত ভিত্তি স্থাপিত হয় ২০১১ সালে এবং ভৌত ভিত্তি ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর — দুটিই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র হাতে। মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে।
খালেদা জিয়ার ১৯৯৫-৯৬ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসাবে উল্লেখ থাকলেও, তার দশ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে রূপপুরের কোন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়নি, কোন চুক্তি সম্পাদিত হয়নি, কোন নির্মাণ শুরু হয়নি। বরং ২০০১ সালে বিএনপি প্রকল্পের আলোচনাকে বিলম্বিত করেছিল।
অতএব, এই দাবি ঐতিহাসিকভাবে বিকৃত — এর রায়: মিথ্যা।
তথ্যসূত্র (12)
The Business Standard — The making of Rooppur Nuclear Power Plant
tbsnews.net
TBS-এর বিস্তারিত প্রতিবেদন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৯-১৯৭৫ পর্যন্ত রূপপুর প্রকল্পের পক্ষে আন্দোলন, ১৯৭৩ সালে BAEC প্রতিষ্ঠা, এবং শেখ হাসিনার ১৯৯৬-২০০১ সরকারের NEP-১৯৯৭-এ রূপপুর বাস্তবায়নের সুপারিশ ও ১৬ অক্টোবর ১৯৯৮ এর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত।
OSTI/ETDEWEB — National Energy Policy for Bangladesh (Doraswami)
osti.gov
জানুয়ারি ১৯৯৭-এ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রকাশ করা হয়।
Prothom Alo — Rooppur Nuclear Power Plant: Bangladesh moves towards nuclear electricity generation
en.prothomalo.com
১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকে একটি সম্ভাব্য বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়া আন্তঃসরকার সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে।
The Business Standard — Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman role detail
tbsnews.net
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯ অক্টোবর ১৯৬৯ লালমনিরহাট সমাবেশ, ৮ মার্চ ১৯৭০ পাবনা জনসভা, ১৫ মার্চ ১৯৭২ ব্রেজনেভের সাথে আলোচনা, ২৭ আগস্ট ১৯৭৩ ভারত-বাংলাদেশ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি।
bdlaws.minlaw.gov.bd — The Bangladesh Atomic Energy Commission Order, 1973
bdlaws.minlaw.gov.bd
প্রেসিডেন্ট ৃ্ষ্ণাদেশ নং ১৫ অব ১৯৭৩, ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক জারিকৃত — বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রতিষ্ঠার আদেশ।
Asia Pacific Energy Policy — Bangladesh National Energy Policy 1996
policy.asiapacificenergy.org
বাংলাদেশের ১৯৯৬ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা।
World Nuclear Association — Nuclear Power in Bangladesh
world-nuclear.org
রূপপুর এনপিপি-র সম্পূর্ণ ইতিহাস: ১৯৬১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ — প্রকল্পের ধারণা, সাইট নির্বাচন, ফরাসি সমীক্ষা, ১৯৮০ ECNEC অনুমোদন, ১৯৯৯ শেখ হাসিনা সরকারের কমিটমেন্ট, ২০০৯-২০২৩ এর সকল চুক্তি ও নির্মাণ।
The Daily Star — Inception to fuel loading (Rooppur timeline)
thedailystar.net
১৯৬১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত রূপপুর এনপিপি-র সরকারি ইতিহাসের সারণি।
The Daily Star — Bangladesh enters nuclear world (Sheikh Hasina foundation stone)
thedailystar.net
২ অক্টোবর ২০১৩-এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
The Financial Express — Rooppur NPP: Construction work of second unit starts July 14
thefinancialexpress.com.bd
২০১৮ সালের ১৪ জুলাই দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু এবং ২০১৩ সালের ২ অক্টোবরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের নিশ্চিতকরণ।
Stimson Center — Amidst a Political Imbroglio: What's Next for Bangladesh's Nuclear Energy Dreams?
stimson.org
বিএনপি, রূপপুরের প্রকাশ্য সমালোচক, পূর্বে ২০০১ সালে এই প্রকল্পের আলোচনাকে বিলম্বিত করেছিল।
Banglapedia — Rooppur Nuclear Power Project
en.banglapedia.org
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের একাডেমিক ইতিহাস: ১৯৬১ থেকে ২০১২ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ বিবরণ।
এই তথ্য যাচাই FactCheckerLab দ্বারা তৈরি। আমাদের পদ্ধতি পড়ুন. সংশোধন জানান.
