Skip to content
Historical Distortion: "বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ চাননি, ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন জিয়াউর রহমান" — নগরবার্তা নিউজের ভাইরাল সাক্ষাৎকারে করা দাবিটি ইতিহাস বিকৃতি

"বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ চাননি, ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন জিয়াউর রহমান" — নগরবার্তা নিউজের ভাইরাল সাক্ষাৎকারে করা দাবিটি ইতিহাস বিকৃতি

BangladeshPoliticsSocial Media
১৮ এপ্রিল, ২০২৬7 মিনিট পড়াFactCheckerLab

নগরবার্তা নিউজে প্রচারিত এক ভাইরাল সাক্ষাৎকারে এক ব্যক্তি দাবি করেন যে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা চাননি এবং জিয়াউর রহমানই বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। UNESCO-র ২০১৭ সালের স্বীকৃতি, বাংলাদেশ সরকারের ১৯৮২ সালের অফিসিয়াল ইতিহাস, মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্র, এবং ১৯৭১ সালের সমসাময়িক বিশ্ব গণমাধ্যমের রিপোর্ট — সবকিছু এই দাবিগুলোর সরাসরি বিপরীত। তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানকে "বঙ্গবন্ধুর পক্ষে" ঘোষণা পাঠ করার জন্য চট্টগ্রামের বেসামরিক নেতৃবৃন্দ নির্দেশ দিয়েছিলেন।

Historical Distortion

দাবি যাচাই

নগরবার্তা নিউজের একটি ভাইরাল সাক্ষাৎকারে দাবি করা হয়েছে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ চাননি, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল না, এবং শেখ মুজিব জাতিকে বিপদে ফেলে আত্মসমর্পণ করে পালিয়ে গেছেন।

দাবি কী?

নগরবার্তা নিউজের ফেসবুক পেজ থেকে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রতিদিন খবর-এর মাইক্রোফোনধারী এক সাংবাদিকের সাথে এক ব্যক্তির একটি রাস্তার সাক্ষাৎকার ভিডিও প্রচারিত হয়। ১৭ ঘণ্টায় ভিডিওটি ৫৩,০০০-এর বেশি রিঅ্যাকশন ও ৩০,০০০-এর বেশি মন্তব্য পেয়েছে।

হালকা সবুজ টি-শার্ট পরা সাক্ষাৎকারদাতা ব্যক্তি একাধিক দাবি করেন:

  1. "শেখ মুজিবুর চাননি দেশ স্বাধীনতা হোক।"
  2. "শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধ চাননি।"
  3. "৭ই মার্চের পরে শেখ মুজিবের কোনো অবদান আমি দেখি না।"
  4. "বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন জিয়াউর রহমান।"
  5. "অবশ্যই জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।"
  6. "৭ই মার্চ যদি স্বাধীনতা ঘোষণা হতো, তাহলে ৮ই মার্চ থেকে যুদ্ধ শুরু হতো।"
  7. "শেখ মুজিব জাতিকে বিপদে ফেলে আত্মসমর্পণ করে পালিয়ে গেছেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার ২৫ দিন পর দেশে এসেছেন।"

এই দাবিগুলো ঐতিহাসিক দলিল, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বাংলাদেশ সরকারের ১৯৮২ সালের মুক্তিযুদ্ধের অফিসিয়াল ইতিহাস, এবং ২৬-২৭ মার্চ ১৯৭১-এর সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্যের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।


রায়: ইতিহাস বিকৃতি — কেন?

১. 'ঘোষণা' আর 'পাঠ' — দুটি আলাদা শব্দ, আলাদা অর্থ

এই পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে একটি মৌলিক পার্থক্য:

  • ঘোষণা করা = স্বাধীনতার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কর্তৃত্ব
  • পাঠ করা = ইতিমধ্যে দেওয়া ঘোষণা বেতারে পাঠ করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া

শেখ মুজিব ঘোষণা দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সেই ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এ ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না।

২. UNESCO স্বয়ং ৭ই মার্চের ভাষণকে 'স্বাধীনতা ঘোষণা' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর UNESCO তাদের "Memory of the World Register"-এ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে []:

"The speech effectively declared the independence of Bangladesh." (ভাষণটি কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল।)

বক্তার দাবি "৭ই মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা হলে ৮ই মার্চ থেকে যুদ্ধ শুরু হতো" — এটি একটি ভ্রান্ত যুক্তি। শেখ মুজিব সচেতনভাবে Unilateral Declaration of Independence (UDI) এড়িয়েছিলেন, কারণ আনুষ্ঠানিক UDI দিলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিচ্ছিন্নতাবাদী দমনের বৈধতা পেত। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোসেফ ফারল্যান্ড স্বয়ং মুজিবকে সতর্ক করেছিলেন যে UDI ঘোষণা করলে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেবে না। এটি ছিল কূটকৌশল, ব্যর্থতা নয়।

৩. বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল ইতিহাস: ২৬ মার্চ ১৯৭১-এ শেখ মুজিবই প্রথম ঘোষণা দেন

দ্য ডেইলি স্টারের ২০১৪ সালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ১৯৮২ সালে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের অফিসিয়াল ইতিহাসে সুস্পষ্ট সময়রেখা দেয় []:

  1. শেখ মুজিব ২৬ মার্চ ভোররাতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিখে রেখেছিলেন
  2. সেই ঘোষণা ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে প্রচারিত হয়
  3. মেজর জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে "শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে" ঘোষণা পাঠ করেন, যা বিশ্ব গণমাধ্যম ধরে ফেলে

প্রথম আলো ২৮ মার্চ ২০১৯-এর প্রতিবেদনে বিশ্বের ২৪টি প্রধান দৈনিক পত্রিকার ২৭ মার্চ ১৯৭১ সংস্করণ পর্যালোচনা করে দেখায় — দ্য স্টেটসম্যান (কলকাতা) লিখেছিল []:

"Mr. Rahman, in a message to the world broadcast by an unidentified wireless station monitored in Calcutta this morning... In a subsequent broadcast over a radio station, describing itself as 'Swadhin Bangla Betar Kendra', Mr. Rahman proclaimed Bangla Desh an independent republic."

অর্থাৎ বিশ্ব গণমাধ্যম ২৬ মার্চ থেকেই জানতে পেরেছিল — জিয়ার ২৭ মার্চের সম্প্রচারের আগেই।

৪. প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য: জিয়াকে ঘোষণার ভাষা বদলাতে বলা হয়েছিল

এই ঘটনার সবচেয়ে শক্তিশালী সাক্ষ্য এসেছে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী থেকে, যারা ঘটনার সময় কালুরঘাটে উপস্থিত ছিলেন বা ভূমিকা রেখেছিলেন []:

(ক) মির্জা আবু মনসুর (সাবেক এমপিএ ফটিকছড়ি, সেক্টর-১ জোনাল কমান্ডার, প্রত্যক্ষদর্শী):

"জিয়াউর রহমান-এর প্রথম বিবৃতিটি অভ্যুত্থানের মতো শোনা যেত ভেবে এ কে খান দ্বিতীয় বিবৃতি খসড়া করেন, যা পরে জিয়াউর রহমান ২৮ মার্চ ১৯৭১ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে পাঠ করেন। বাংলাদেশ সরকারের 'মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র' (১৫তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৯, ২০১০ সালে পুনর্মুদ্রিত) এটি প্রমাণ করে।"

(খ) ডঃ এ আর মল্লিক (তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, স্মৃতিকথা "আমার জীবনকথা ও বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম" পৃষ্ঠা ৬৬):

"২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান নিজের নামে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মনে আছে তিনি বলেছিলেন, 'আমি মেজর জিয়া এতদ্বারা ঘোষণা করছি...'। আমি তখনই আপত্তি জানাই। হান্নানকে বলি কালুরঘাটে খবর পাঠাতে যে ঘোষণার শব্দগুলো পরিবর্তন করতে হবে। জিয়া বঙ্গবন্ধু মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারেন। তাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া যাবে। বহির্বিশ্বের কেউ জিয়াকে চিনতো না। এইভাবেই মেজর জিয়া তাঁর ঘোষণা পুনরায় লেখেন।"

(গ) বেলাল মোহাম্মদ ("স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র" গ্রন্থের লেখক, পৃষ্ঠা ৪০-৪১):

"আমি তাকে এক টুকরা কাগজ দিই। সে পকেট থেকে কলম বের করে প্রথমে লেখে, 'আমি, মেজর জিয়া এতদ্বারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।'

আমি তখন বললাম, 'বঙ্গবন্ধুর পক্ষে — এরকম কিছু বলতে চান?'

সে উত্তর দিল, 'আপনি ঠিক বলেছেন।' নিজের নামের পরে একটি তীর চিহ্ন এঁকে সে লিখল: 'আমাদের মহান জাতীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে...'"

অর্থাৎ জিয়াউর রহমান নিজের উদ্যোগে "বঙ্গবন্ধুর পক্ষে" লেখেননি — ডঃ মল্লিক, এ কে খান, এবং বেলাল মোহাম্মদ সহ চট্টগ্রামের বেসামরিক নেতৃবৃন্দ জিয়াকে তা করতে অনুরোধ এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন।

৫. জিয়ার নিজের কণ্ঠে ঘোষণার পাঠ — "বঙ্গবন্ধুর নির্দেশক্রমে"

দ্য ডেইলি স্টারের আর্কাইভে ২৭ মার্চ ১৯৭১, সন্ধ্যা ৭:৪৫-এ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মূল পাঠ পাওয়া যায় []:

"I, Major Ziaur Rahman, at the directive of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, hereby declare that the independent People's Republic of Bangladesh has been established." (আমি মেজর জিয়াউর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশক্রমে, এতদ্বারা ঘোষণা করছি যে স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।)

লক্ষ্য করুন — জিয়ার নিজের মুখে "বঙ্গবন্ধুর নির্দেশক্রমে"। অর্থাৎ ঘোষণার কর্তৃত্ব মুজিবের, পাঠকের দায়িত্ব জিয়ার।

৬. মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্র — শেখ মুজিবই "স্বাধীনতা ঘোষণাকারী"

১০ এপ্রিল ১৯৭১-এ মুজিবনগর সরকারের Proclamation of Independence — যা বাংলাদেশের আইনগত ভিত্তি এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত — সুস্পষ্টভাবে বলে []:

"Sheikh Mujibur Rahman duly made a declaration of independence at Dacca on March 26, 1971." (শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন।)

এই ঘোষণাপত্রে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৭. শেখ মুজিব "পালিয়ে যাননি" — পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন, মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হয়েছিল

বক্তার দাবি "শেখ মুজিব আত্মসমর্পণ করে পালিয়ে গেছেন" — এটি সম্পূর্ণ বিকৃত ইতিহাস। দ্য ডেইলি স্টার অনুযায়ী []:

"Bangabandhu was ready and declared the independence of Bangladesh. He courted arrest thinking that it would save Dhaka from total destruction." (বঙ্গবন্ধু প্রস্তুত ছিলেন এবং স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি গ্রেফতার বরণ করেন এই ভেবে যে এতে ঢাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস থেকে রক্ষা পাবে।)

মুজিবকে পশ্চিম পাকিস্তানের লায়ালপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি সামরিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে (গোপন রাখা হয়েছিল)। বাংলাদেশের বিজয়ের পর আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে তাঁকে মুক্তি দেয়। তিনি ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ লন্ডন ও নয়াদিল্লি হয়ে ঢাকায় ফেরেন।


ইতিহাসের ক্রমপর্যায়

তারিখঘটনাকর্তা
৭ মার্চ ১৯৭১রেসকোর্সে ১০ লাখ মানুষের সামনে ভাষণ। UNESCO-স্বীকৃত "de facto স্বাধীনতা ঘোষণা"শেখ মুজিব — ঘোষণা
২৫ মার্চ ১৯৭১ রাত"অপারেশন সার্চলাইট" গণহত্যাপাকিস্তান আর্মি
২৬ মার্চ ১৯৭১ ভোররাতওয়্যারলেসে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা; অতঃপর গ্রেফতারশেখ মুজিব — ঘোষণা
২৬ মার্চ ১৯৭১ সন্ধ্যাSwadhin Bangla Betar Kendra থেকে প্রথম সম্প্রচার; বিশ্ব গণমাধ্যম খবর পায়স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র
২৭ মার্চ ১৯৭১ সন্ধ্যা ৭:৪৫কালুরঘাট থেকে "বঙ্গবন্ধুর নির্দেশক্রমে" ঘোষণা পাঠমেজর জিয়া — পাঠ
১০ এপ্রিল ১৯৭১মুজিবনগর Proclamation of Independenceমুজিবনগর সরকার
৪ ডিসেম্বর ১৯৭১পাকিস্তানি সামরিক আদালত: মুজিবকে মৃত্যুদণ্ড (গোপন)পাকিস্তানি সামরিক আদালত
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ; বাংলাদেশ বিজয়মুক্তিবাহিনী + ভারতীয় বাহিনী
৮ জানুয়ারি ১৯৭২পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি
১০ জানুয়ারি ১৯৭২বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

উপসংহার

নগরবার্তা নিউজের ভাইরাল ভিডিওতে উপস্থাপিত দাবিগুলো — "শেখ মুজিব স্বাধীনতা চাননি", "জিয়াউর রহমানই বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন", "জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন", "মুজিব পালিয়ে গেছেন" — ঐতিহাসিক দলিলের সরাসরি বিপরীত।

UNESCO-র স্বীকৃতি, বাংলাদেশ সরকারের ১৯৮২ সালের অফিসিয়াল ইতিহাস, ১৯৭১ সালের বিশ্ব গণমাধ্যমের সমসাময়িক রিপোর্ট, মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্র, ডঃ এ আর মল্লিক-বেলাল মোহাম্মদ-মির্জা আবু মনসুরের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, এবং স্বয়ং জিয়ার কণ্ঠে "বঙ্গবন্ধুর নির্দেশক্রমে" শব্দবন্ধ — সবকিছুই একই কথা বলছে:

  • ১৯৭১-এর নেতৃত্ব ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের
  • ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু (৭ মার্চ ও ২৬ মার্চ)
  • ২৭ মার্চ জিয়া সেই ঘোষণা পাঠ করেন — "বঙ্গবন্ধুর নির্দেশক্রমে"

'ঘোষণা' আর 'পাঠ' — দুটি সম্পূর্ণ আলাদা শব্দ, আলাদা অর্থ। সাক্ষাৎকারদাতা এই পার্থক্যটিই গুলিয়ে ফেলেছেন, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে উল্টে দিয়েছেন।

এটি মতভেদের বিষয় নয় — ঐতিহাসিক দলিলের বিপরীত পুনর্লিখন। তাই এই দাবির রায়: ইতিহাস বিকৃতি

তথ্যসূত্র (7)

এই তথ্য যাচাই FactCheckerLab দ্বারা তৈরি। আমাদের পদ্ধতি পড়ুন. সংশোধন জানান.