'জিয়াউর রহমানসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাই ৭২-এর সংবিধানের বিরোধীতা করেছিলেন' — নাহিদ ইসলামের সংসদীয় দাবিটি বিভ্রান্তিকর
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দাবি করেন—জিয়াউর রহমানসহ 'শত শত মুক্তিযোদ্ধা' ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছিলেন। কালের কণ্ঠসহ একাধিক গণমাধ্যমে শিরোনাম হয় এই দাবি। ফ্যাক্টচেকারল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে দাবিটি বিভ্রান্তিকর: জিয়া ১৯৭২ সালে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান (কর্নেল) ছিলেন—কোনো রাজনৈতিক ভূমিকায় ছিলেন না, প্রকাশ্যে সংবিধানের বিরোধিতার নথিভুক্ত প্রমাণ নেই। নাহিদের নাম-উল্লিখিত কমরেড মোজাফফর আহমেদ সংবিধানের সমর্থক ছিলেন, মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী ছিলেন এবং বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন। গণপরিষদের ৪০৪ সদস্যের মধ্যে মাত্র ৩ জন ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন—কেউই সম্মুখ সমরের মুক্তিযোদ্ধা নন। বরং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৩৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত (বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক) মুক্তিযোদ্ধা ৭২-এর মূল সংবিধান হুবহু পুনঃপ্রবর্তনের দাবিতে প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়েছেন।
Misleading
Claim Verified
জিয়াউর রহমানসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাই ৭২-এর সংবিধানের বিরোধীতা করেছিলেন
দাবি কী?
৩০ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রায় ৩৪ মিনিটের একটি বক্তব্য দেন। এতে তিনি বলেন:
"৭২ এর সংবিধানে এসে বলা হলো জাতীয়তাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র। এবং এটার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।"
"৭২ এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন বদরুদ্দিন উমর। ৭২ এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন মাওলানা ভাসানী। ৭২ এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন কমরেড মোজাফফর আহমেদ। ৭২ এর সংবিধানের বিরোধিতা শত শত মুক্তিযোদ্ধারাও করেছেন মাননীয় স্পিকার।"
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ ১ মে ২০২৬ তাদের ফেসবুক পেজে শিরোনাম দেয়—'জিয়াউর রহমানসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাই ৭২-এর সংবিধানের বিরোধীতা করেছিলেন'—যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে [১][২]।
রায়: বিভ্রান্তিকর — কেন?
নাহিদ ইসলামের দাবিটি ঐতিহাসিকভাবে বিভ্রান্তিকর। মাওলানা ভাসানী ও বদরুদ্দিন উমর ৭২-এর সংবিধানের সমালোচক ছিলেন—এটা সঠিক। কিন্তু জিয়াউর রহমানের বিরোধিতার দাবি ঐতিহাসিক রেকর্ডে সমর্থনহীন, কমরেড মোজাফফর আহমেদের নাম পুরোপুরি ভুলভাবে উল্লিখিত, এবং 'শত শত মুক্তিযোদ্ধা'র বিরোধিতার কোনো নথি নেই—বরং বিপরীত চিত্রই বেশি স্পষ্ট। নিচে কারণসমূহ:
১. জিয়াউর রহমান ১৯৭২ সালে রাজনীতিতে ছিলেন না
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, '১৯৭২ সালের জুন মাসে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান' [৩]। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় তিনি কর্নেল পদমর্যাদার একজন কর্মরত সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন—কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা গণপরিষদের সদস্য ছিলেন না। সেনাবাহিনীর সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বিবৃতি দেওয়ার কোনো অধিকার ছিল না। জিয়া ১৯৭২ সালে সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন—এমন কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য, লিখিত বিবৃতি, বা ঐতিহাসিক নথি নেই [৩][৪]।
২. জিয়ার পরবর্তী সংশোধনী সংবিধানের কাঠামোর ভেতরেই
১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর জিয়া প্রক্লেমেশন অর্ডারের মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনায় 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংযোজন করেন এবং 'ধর্মনিরপেক্ষতা'র জায়গায় 'মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' স্থাপন করেন [৫]। ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এসব পরিবর্তন সংসদ অনুমোদন করে। কিন্তু এ কাজগুলো সংবিধান বাতিল বা প্রতিস্থাপন নয়—সংবিধানের নিজস্ব সংশোধনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই করা হয়েছিল। তিনি ১৯৭২-এর সংবিধান বহাল রেখেই কাজ করেছেন।
৩. নাহিদ নিজেই স্বীকার করেছেন জিয়া সংবিধান বাতিল করেননি
একই বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেছেন:
"৭২ এর সংবিধানকে বাতিল করার একটা সুযোগ আমাদের এসেছিল ১৯৭৫ সালের সিপাহী জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। জিয়াউর রহমানের এটা একটা ঐতিহাসিক ভুল বলবো মাননীয় স্পিকার। তার প্রতি সম্মান রেখেই যে আমরা সেই সময়ে সেই অপরচুনিটি মিস করেছি।" [৬]
এই বক্তব্য নিজেই দেখাচ্ছে যে—নাহিদের নিজস্ব ভাষ্য অনুযায়ীও জিয়া সংবিধান বাতিল করেননি, বরং বাতিলের সুযোগ 'মিস' করেছিলেন। অর্থাৎ জিয়া ১৯৭২-এর সংবিধানের সক্রিয় বিরোধী ছিলেন না—এটি স্বয়ং নাহিদের স্বীকারোক্তি।
৪. কমরেড মোজাফফর আহমেদ সংবিধানের সমর্থক ছিলেন, বিরোধী নন
নাহিদের নাম-উল্লিখিত 'কমরেড মোজাফফর আহমেদ' (১৯২২–২০১৯) ছিলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর)-এর সভাপতি এবং স্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগ ও সংবিধানের সমর্থক:
- ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন (তাজউদ্দীন আহমদের গঠিত বহুদলীয় পরামর্শক কমিটিতে) [৭]
- ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (মোজাফফর) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠন করেন [৮]
- ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী (যা একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে) পাশ করতে ন্যাপ-মোজাফফর সক্রিয় ভূমিকা রাখে [৮]
- পরবর্তীতে ন্যাপ-মোজাফফর বাকশালে যোগ দেয় [৯]
অর্থাৎ কমরেড মোজাফফর আহমেদ ৭২-এর সংবিধানের বিরোধী ছিলেন না—বরং তার সবচেয়ে নিবিষ্ট সমর্থকদের একজন ছিলেন। নাহিদের এই দাবিটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের পরিপন্থী।
৫. গণপরিষদে ভিন্নমতদাতা ছিলেন মাত্র ৩ জন—একজনও সম্মুখ সমরের মুক্তিযোদ্ধা নন
ডেইলি স্টার-এর '৫০ ইয়ার্স অব আওয়ার কনস্টিটিউশন' সংকলনে কওসর আহমেদ লিখেছেন—গণপরিষদের ৪০৪ সদস্যের মধ্যে মাত্র ৩ জন সংবিধান বিলের ওপর ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন [১০]:
| সদস্য | দল | আসন | ভূমিকা |
|---|---|---|---|
| সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত | ন্যাপ (ওয়ালি) | সিলেট-২ | সংবিধান খসড়া কমিটির সদস্য, সর্বাধিক সংশোধনী প্রস্তাব |
| মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা | স্বতন্ত্র | পার্বত্য চট্টগ্রাম-১ | চাকমা জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি |
| মোহাম্মদ আবদুল আজিজ চৌধুরী | — | সিলেট-২১ | অনুচ্ছেদ ৭০-এর বিরোধিতা |
এঁদের মধ্যে কেউই মুক্তিবাহিনীর সম্মুখ সমরের যোদ্ধা ছিলেন না—সবাই ছিলেন রাজনীতিক। সুরঞ্জিত ও লারমা সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারার সমালোচনা করেছিলেন, কিন্তু সংবিধান বাতিলের দাবি কেউ তোলেননি।
৬. বরং ৩৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ৭২-এর সংবিধানের পক্ষে প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়েছেন
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অ্যাসোসিয়েশনের ৩৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত (বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক) মুক্তিযোদ্ধা প্রকাশ্য বিবৃতিতে ৭২-এর সংবিধান বাতিলের প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান এবং মূল সংবিধান হুবহু পুনঃপ্রবর্তনের দাবি করেন। তাঁরা বলেন [১১]:
"১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে লেখা ৭২-এর সংবিধান বাতিল করার হীন প্রচেষ্টাকে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি... কোনো মতেই ৭২-এর সংবিধান বাতিল করা যাবে না, বরং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি ৭২-এর মূল সংবিধান হুবহু পুনঃপ্রবর্তন করা হোক।"
এই ৩৬ জন রাষ্ট্র-স্বীকৃত বীরযোদ্ধাদের প্রকাশ্য অবস্থান নাহিদের 'শত শত মুক্তিযোদ্ধার বিরোধিতা'র দাবির সরাসরি বিপরীত। 'শত শত মুক্তিযোদ্ধা ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন'—এমন কোনো ঐতিহাসিক নথি, তালিকা, বা প্রকাশ্য বিবৃতি বিদ্যমান নেই।
৭. মাওলানা ভাসানী ও বদরুদ্দিন উমর সংবিধানের 'সমালোচক' ছিলেন—'মুক্তিযোদ্ধা' ছিলেন না
নাহিদের নামোল্লেখিত মাওলানা ভাসানীর ন্যাপ ১৯৭৩-এর নির্বাচন বয়কট করেছিল—এটি সত্য। বদরুদ্দিন উমর ৭২-এর সংবিধানকে 'A Constitution for Perpetual Emergency' বলে সমালোচনা করেছেন—এটিও সত্য [৪]। কিন্তু:
- মাওলানা ভাসানী (১৮৮০–১৯৭৬) ছিলেন একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা, ১৯৭১-এ সম্মুখ সমরে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা নন—তিনি ভারতে অবস্থান করছিলেন
- বদরুদ্দিন উমর ছিলেন মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী ও লেখক, মুক্তিবাহিনীর কোনো সদস্য নন
এঁরা কেউই 'খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা' শ্রেণিতে পড়েন না। তদুপরি, এঁরা সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারা সমালোচনা করেছিলেন—সংবিধানকে সম্পূর্ণরূপে বিরোধিতা বা বাতিলের দাবি তোলেননি।
তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ
জিয়াউর রহমানের ১৯৭১–১৯৮১ সময়রেখা
| সময় | পদ/ভূমিকা | সংবিধান প্রসঙ্গে |
|---|---|---|
| মার্চ ১৯৭১ | কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ | মুক্তিযোদ্ধা |
| ১৯৭১ | জেড ফোর্স কমান্ডার, সেক্টর-১১ | মুক্তিযোদ্ধা |
| জুন ১৯৭২ | বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপ-সেনাপ্রধান (কর্নেল) | কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা নেই |
| নভেম্বর ১৯৭২ | কর্মরত সেনা কর্মকর্তা | সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় কোনো বক্তব্য নেই |
| ১৯৭৩ | ব্রিগেডিয়ার | কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা নেই |
| ১৯৭৩-এর শেষ | মেজর জেনারেল | কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা নেই |
| ২৫ আগস্ট ১৯৭৫ | সেনাপ্রধান | কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা নেই |
| ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ | রাষ্ট্রপতি | প্রক্লেমেশন অর্ডারে সংবিধান সংশোধন (বাতিল নয়) |
| ৬ এপ্রিল ১৯৭৯ | নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি | সংসদে পঞ্চম সংশোধনী পাশ |
| ৩০ মে ১৯৮১ | মৃত্যু | সংবিধান বহাল রেখে |
পুরো জীবনে জিয়া ১৯৭২-এর সংবিধান বাতিল বা প্রতিস্থাপন করেননি—সংশোধনী এনেছিলেন।
নাহিদের দাবি বনাম ঐতিহাসিক তথ্য
| নাহিদের দাবি | ঐতিহাসিক তথ্য | মূল্যায়ন |
|---|---|---|
| জিয়াউর রহমান ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা/বিদ্রোহ করেছিলেন | ১৯৭২-এ জিয়া কর্মরত সামরিক কর্মকর্তা; প্রকাশ্য বিরোধিতার নথি নেই | বিভ্রান্তিকর |
| কমরেড মোজাফফর আহমেদ ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন | মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা; আওয়ামী লীগ-জোটে; বাকশালে যোগদান | মিথ্যা |
| শত শত মুক্তিযোদ্ধা ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন | কোনো নথি নেই; বরং ৩৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীর প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন | অপ্রমাণিত |
| মাওলানা ভাসানী ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন | ন্যাপ-ভাসানী ১৯৭৩-এর নির্বাচন বয়কট করেছিল; সংবিধানের সমালোচক, তবে 'মুক্তিযোদ্ধা' নন | আংশিক সত্য |
| বদরুদ্দিন উমর ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন | মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী, সংবিধানের সমালোচক; তবে মুক্তিযোদ্ধা নন | আংশিক সত্য |
উপসংহার
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ৩০ এপ্রিল ২০২৬-এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন—জিয়াউর রহমানসহ 'শত শত মুক্তিযোদ্ধা' ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছিলেন। কালের কণ্ঠসহ একাধিক গণমাধ্যম এই দাবিকেই শিরোনাম করে।
ফ্যাক্টচেকারল্যাবের অনুসন্ধানে দাবিটি বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হয়েছে। জিয়া ১৯৭২ সালে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান (কর্নেল) ছিলেন এবং তখন কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা নেন নি; প্রকাশ্যে সংবিধানের বিরোধিতার নথিভুক্ত প্রমাণ নেই। তাঁর পরবর্তী সংশোধনীগুলো সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে—বাতিল নয়। নাহিদ নিজেই বলেছেন জিয়া সংবিধান বাতিল করেননি, এটিকে 'ঐতিহাসিক ভুল' বলেছেন। নাহিদের নাম-উল্লিখিত কমরেড মোজাফফর আহমেদ আদতে সংবিধানের সমর্থক—আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী এবং বাকশালের অংশ ছিলেন। গণপরিষদের মাত্র ৩ জন ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন—কেউই সম্মুখ সমরের মুক্তিযোদ্ধা নন। বরং ৩৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীরযোদ্ধা ৭২-এর সংবিধানের পক্ষে প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়েছেন।
এ কারণে ফ্যাক্টচেকারল্যাব কালের কণ্ঠের শিরোনাম হিসেবে ছড়িয়ে পড়া এই দাবিটিকে বিভ্রান্তিকর বলে রায় দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র
Sources (11)
কালের কণ্ঠ ফেসবুক পোস্ট — 'জিয়াউর রহমানসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাই ৭২-এর সংবিধানের বিরোধীতা করেছিলেন'
facebook.com
১ মে ২০২৬ কালের কণ্ঠের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্ট, নাহিদ ইসলামের সংসদীয় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে।
Somoy TV — '৭২'র সংবিধানের বিরোধীতা শত শত মুক্তিযোদ্ধারা করেছেন: নাহিদ ইসলাম'
youtube.com
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নাহিদ ইসলামের ভাষণের সরাসরি ভিডিও।
Banglapedia — Rahman, Shahid Ziaur
banglapedia.org
জিয়াউর রহমানের জীবনী—জুন ১৯৭২-এ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উপ-সেনাপ্রধান নিযুক্তি, ১৯৭৩-এ ব্রিগেডিয়ার, ২৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ সেনাপ্রধান।
Wikipedia — Criticism of the Constitution of Bangladesh
wikipedia.org
সংবিধানের সমালোচক ও তাঁদের বক্তব্যের ঐতিহাসিক বিবরণ।
Wikipedia — Ziaur Rahman
wikipedia.org
জিয়াউর রহমানের জীবনী, রাষ্ট্রপতিত্ব এবং পঞ্চম সংশোধনীর বিস্তারিত।
The Daily Star — Nahid renews call for Shahabuddin's arrest (April 30, 2026)
thedailystar.net
নাহিদের ৩৪ মিনিটের সংসদীয় বক্তব্যের সম্পূর্ণ কভারেজ। উদ্ধৃতি—জিয়ার 'ঐতিহাসিক ভুল'।
Bangla Tribune — Muzaffar Ahmed and NAP in Bangladesh's history
banglatribune.com
মোজাফফর আহমেদ ও ন্যাপের রাজনৈতিক ইতিহাস; মুজিবনগর সরকার, আওয়ামী লীগ-জোট, বাকশালে যোগদান।
Wikipedia — Bangladesh Krishak Sramik Awami League (BAKSAL)
wikipedia.org
বাকশালের গঠন; ন্যাপ (মোজাফফর) ও সিপিবি'র চতুর্থ সংশোধনী পাশে ভূমিকা ও বাকশালে যোগদান।
The Daily Star — The voices of dissent in the Constituent Assembly: Sengupta, Larma and Chowdhury
thedailystar.net
১৯৭২-এর গণপরিষদে ভিন্নমতদাতা তিন সদস্যের বিস্তারিত ভূমিকা—সুরঞ্জিত, লারমা ও আবদুল আজিজ চৌধুরী।
কালের কণ্ঠ — '৭২-এর সংবিধান বাতিলের বিরুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত ৩৬ মুক্তিযোদ্ধার প্রতিবাদ' (১৪ জানুয়ারি ২০২৫)
kalerkantho.com
৩৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার প্রকাশ্য বিবৃতি—৭২-এর মূল সংবিধান হুবহু পুনঃপ্রবর্তনের দাবি।
Jagonews24 — সংসদে ৩৪ মিনিটের বক্তব্যে যা বললেন নাহিদ ইসলাম
jagonews24.com
নাহিদ ইসলামের সংসদীয় বক্তব্যের সম্পূর্ণ বাংলা প্রতিবেদন।
This fact-check was produced by FactCheckerLab. Read our methodology. Report a correction.
